সিসি নিউজ: সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ৭ মার্চ স্বাধীনতা পদক পুরস্কারের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতসহ দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিককের নাম ঘোষণা করা হলেও তাতে কবি নির্মলেন্দু গুণের নাম ছিল না।
এরপর গত ১০ মার্চ ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বিবেচনা বোধ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
‘আমাকে স্বাধীনতা পদক দিন’ শিরোনামে ঐ পোস্টে কবি লিখেছিলেন, ‘আমার একদা সহপাঠিনী, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার দৃষ্টে আমি প্রথম কিছুকাল অবাক হয়েছিলাম- কিন্তু আজকাল খুবই বিরক্ত বোধ করছি। অসম্মানিত বোধ করছি। ক্ষুব্ধ বোধ করছি।’
ষাটের দশকের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন শেখ হাসিনা ও কবি নির্মলেন্দু গুণ।
সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসেবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভিতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনো রয়েছে। পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে এক সময় আমাকে এই পদকটি দেয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন।’
গুণ লেখেন, ‘শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পদকের মুলোটি আমার নাকের ডগায় ঝুলিয়ে রেখেছেন কিন্তু তিনি বলেন কিছুতেই সেটি আমাকে দিচ্ছেন না।’
‘উনার ( শেখ হাসিনা) যোগ্য ব্যক্তির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হতে হতে আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্ত সেই তালিকায় আমার স্থান হচ্ছে না,’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।
নির্মলেন্দু গুণের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনেক কবিতাই বাংলার মানুষের মুখে মুখে উচ্চাতির হয়। স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সে সময় তার লেখা ‘হুলিয়া’ দারুণ জনপ্রিয় হয়।ওই কবিতায় ‘আইয়ুব খান এখন কোথায়? শেখ মুজিব কি ভুল করছেন?’ প্রশ্নের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকেই ফুটিয়ে তোলেন কবি।
পরে ‘শেখ মুজিব ১৯৭১’, ‘সেই রাত্রির কল্পকাহিনী’, ‘স্বাধীনতা- এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’, ‘আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি’ প্রভৃতি শিরোনামে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ককে নিয়ে কবিতা লিখেছেন গুণ।
গুণের ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।
একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কবি নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চলতি বছরের স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীতদের তালিকায় গুণের নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠালে শেখ হাসিনা তা অনুমোদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে নির্মলেন্দু গুণসহ ১৫ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করবেন।